মাঝে মধ্যে দুনিয়াদারি নিয়ে অনেক ডিপ থটস ঘোরাফেরা করে মাথার মধ্যে, বিশেষ করে যে দিনগুলাতে হয়তো আমার এক সেকেন্ড টাইম ও নাই নষ্ট করার মতো। তো যাই হোক, আমার কাছে কঠিন কঠিন তত্ব-টত্ব নিয়ে ভাবা বিশেষ প্যারাদায়ক লাগে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ব, সাধারণজ্ঞান, অসাধারণ জ্ঞান এরকম জাগতিক আরো যতো ধরনের ভারি ভারি বিষয় এর এগসিস্টেন্স আছে, সব নিয়ে এক মিনিট টাইম দেয়াও আমার কাছে মনে হয় বিগ ওয়েস্ট অফ টাইম। এর পিছনে কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে আমি বাস্তবে একজন অলস মানুষ। দুনিয়ার ঝক্কি ঝামেলা নিয়ে ভাবার চেয়ে ৩ ঘণ্টা ঘুমায়ে নেওয়া আমার কাছে বেশি প্রেফারেবল। 
এই ব্লগটা একধরনের ঝোঁকের বশে খুলসিলাম। ছোটবেলা থেকে যেই কয়টা ভালো অভ্যাস গড়ে উঠসিলো "নিজের সুখ,
দুঃখ, আবোল- তাবোল চিন্তা ভাবনা" কোনো একটা জায়গায় লেখে রাখা ছিলো তার মধ্যে অন্যতম। প্রথমে একটা ডাইরিতে লেখে রাখতাম, এরপর বুঝলাম জিনিশটা সেইফ না তাই এরপর যেকোনো কোডিং করে (যেটা শুধু আমিই বুঝতে পারবো) যেকোনো স্কুলের সিডব্লিউ বা হোমওয়ার্ক এর খাতায় লেখতাম। কিন্তু কাজটা বেশ কঠিন লাগা শুরু করলো (কারণ শুরু থেকেই আমি অলস) তখন থেকে এই লেখালেখি একদম বাদ দিলাম, স্পেশাল্লি যখন এর থেকেও ইজি আর লাইফসেভিং ওয়ে বাইর করলাম। ঘুম। এক ঘুম দিয়ে উঠলে দুনিয়া একদম নতুন নতুন লাগে। সো এনিওয়ে, আবার লেখা লেখি শুরুর কথা যখন ভাবা শুরু করলাম তখন দেখি ব্রেইন নিউরনকে ফোরস করতেসে কিছু আধ্যাত্মিক ভাবার জন্য। ফলাফল কয়েকটা অদ্ভুত লেখা। সমস্যা শুরু হইলো যখন লেখা গুলা রি-রিড করতে যেয়ে আমার মনে হইলো এতো অগভির আর অপ্রয়োজনীয় চিন্তা ভাবনা কেমনে এই নিরেট মাথায় প্রবেশ করলো, আরো সমস্যা লাগলো যখন দেখি কে কে জানি এইসব আজেবাজে লেখা পড়েও আবার। মনে মনে কিন্তু ভালোই লাগে, কিন্তু তারপরেও কেমন অস্বস্তি লাগে যেই মানুষগুলা পরে এরা ভাবে "কি আস্ত পাগলরে ভাই!" 

তো যাই হোক, আজকে এখন বাজে ভোর ৫টা ৫০, জেগে আছি। রাতজাগা আমার কাছে কোনো স্পেশাল ক্রেডিট পাওয়ার মতো কিছু লাগে নাই কখনো, প্রয়োজনের জন্য অনেক রাত জাগসি। আজকে ভাবলাম একটা সুন্দর জিনিস নিয়ে লেখতে। আমার নিজের জীবনের অনেক সুন্দর স্পেশাল কাহিনী আমি ভুলে গেসি, কয়েকটা মনে আসে। এটা নিয়ে লেখতে মনে চাইলো কারণ আমি আমার নিজের অ্যাম্বিশনের ভারে ঘাড় সোজা করে দাঁড়াইতে পারিনা, বাপমার গুলার কথাতো বাদ ই দেই। তো এটা এরকম একটা পুরোনো অ্যাম্বিশন যেটা চোখের পলকে পূরণ হয়ে গেছিলো। গল্পের টপিকটা বা যিস্টটা আর দশজন স্টুডেন্টদের তাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অবসেশন এর মতোই। যখন স্কুলে পড়ি তখন এর গল্প এটা। কয়েকটা স্কুল থেকে স্টুডেন্ট সিলেক্ট করে একটা প্রোগ্রামিং এর কন্টেস্ট আয়োজন করেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রোগ্রামিং এর 'প' অ জানিনা তখন। কিন্তু ফ্রেন্ডরা বললো, "ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুন্দর জায়গা। ছবি তোলার মত অনেক অস্থির অস্থির জায়গা আছে চল রেজিস্ট্রেশন করি" যাবো কি যাবোনা কনফিউশনের ঘোরে ঘুরতে ঘুরতে লাস্ট মোমেন্ট এ যেয়ে করলাম রেজিস্ট্রেশন। যাওয়ার দিন সুন্দর মতো গেলাম। তখনো আমি কার্জন হল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে আলাদা জায়গা এইটা জানতাম না।  তো যখন স্কুলবাসটা কার্জন এর ফিজিক্স বিল্ডিং এর সামনে থামলো, ভাইরে ভাই! আমার মনে হইলো এটা কি পড়ালেখা করার জায়গা? পড়ালেখা করার যায়গা এতো সুন্দর  হয় কিভাবে? রাজপ্রাসাদ এর মতো দালানকোঠা, ফিজিক্স বিল্ডিং এর অডিটরিয়াম, সিলিং এর ডিজাইন, দরজার কারুকাজ আশপাশ দেখে সিম্প এর মতো মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এমন কোনো যায়গা বাদ রাখিনাই যেখানে ছবি তুলিনাই, কারণ জানিনা আবার কবে আসা হবে না হবে। ওহ আর বাহিরে কি একটা পাখিও জানি ডাকছিলো। সেবার প্রথম আমি মনে হয় কোনো পাখির ডাক শুনে এতো ভাল্লাগসিলো। বাসায় এসে ১সপ্তাহ খালি গল্পই করসি ঢাবি নিয়ে। সুযোগ পেলেই কন্টেক্সট ঢুকায়ে গল্প মারতাম। অবসেসড হয়ে গেসিলাম! স্কুল লাইফ শেষ হইল, কলেজ লাইফ শেষ হইলো। একটা সুপ্ত আকর্ষণ কাজ করতো কেও ঢাবিতে পড়ে শুনলেই লোল ! অ্যাডমিশ্নের টাইমে ধুমায়ে যখন মেডিকেলের পড়া পড়তেসি মনে মনে ইভেন দোয়া করতাম এমন একটা মেডিকেল এ যাতে চান্স পাই যেটা ঢাবি এর মতোন দেখতে, তাইলে আব্বুআম্মু প্লাস আমার দুইজনের ইচ্ছা ই পূরণ হবেনে। হইলোনা। প্রকৃতি সবসময় আমাদেরকে এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ করে দেয় না। আমার বিশেষ সমস্যা ছিলোনা কারণ আমার ইচ্ছা পূরন হইসিলো, আব্বু আম্মুকেও মানায়ে ফেলসিলাম আর মেডিকেল এ পরীক্ষা দিবোনা। তারপর থেকে চলছে। এখন আর এতো গভীর ভাব নাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার। ৩ বছর হয়ে গেসে।।

ইদানিং একটা অদেখা, অস্পৃশ্য কল্পনা ঘুমাইতে দেয়না। রাতদিন নিমগ্ন থাকি। সবসময় ভাগ্য সবকিছু ফেভার করেনা তাই এই ম্যাজিকেল মোমেন্টটা নিয়ে আবার গল্প মারলাম। Shawshank Redemption মুভিতে যখন অ্যান্ডি ডুফ্রেইন বলেছিলো, "Hope is a good thing, may be the best of the things. And good thing never dies"ঠিক তখন রেড বলেছিলো, "Hope is a dangerous thing. It can drive a man insane" কোনটা কতটুক সত্য একমাত্র যে এসব ঠিক করে সে ই ভালো বলতে পারবেন।         


Comments

Popular Posts